Breaking News

নবান্ন অভিযানে DYFI যুবনেতার মৃত্যু,ফুঁসছে বামপন্থীরা।

মইদুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে মিছিল

নিজস্ব সংবাদদাতা:চাকরি, শিক্ষা-সহ একাধিক দাবিতে গত ১১ ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল ১২টি বাম ছাত্রযুব সংগঠন। সেখানেই পুলিশ ও বামকর্মীদের মধ্যে তীব্রই সংঘাত শুরু হয়। জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। ওই ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতে আহত হন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশকর্মী।বাম সংগঠনগুলির নবান্ন অভিযান চলাকালীন পুলিশের লাঠির ঘায়ে গুরুতর আহত হয়ছিলেন DYFI নেতা মইদুল ইসলাম মিদ্দা।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, পুলিশের প্রচণ্ড মারে মইদুলের শরীরের একাধিক মাংসপেশি আঘাত লাগে। পেটে ও পিঠে ভয়ংকরঘাত পান তিনি। ফলে তাঁর কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যু হয় বাঁকুড়ার কোতলপুরের বাসিন্দা মইদুলের। এই ঘটনা তীব্র প্রতিক্রিয়া বাম নেতৃত্বের। মানবাধিকার কমিশনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা।

এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মৃত্যু নয়, এটা খুন। সরকার ইতরতার সীমা ছাড়িয়েছে। এই বাচ্চা ছেলেটকে কীভাবে মেরেছে। সরকার ভয় পেয়েছে। তাঁর বুকে, পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেছে পুলিশ। চিকিৎসক চাপের মুখে সবটা বলতে পারছেন না।”

সিপিএম নেতা ফুয়াদ হালিমের অভিযোগ, পুলিশ মাথা ও বুক লক্ষ্য করেই লাঠি চালিয়েছে। ১৩ তারিখ সকালে জানা যায় কিডনি ফেলিওর হয়েছে মইদুলের। পুলিসের লাঠির আঘাত পেশির উপর পড়ায়, পেশি ফেটে যায়। সেখান থেকে যে প্রোটিন বের হয়। তা কিডনিকে ব্লক করে দেয়। ১৪ তারিখ আরও অবনতি ঘটে। রবিবার রাত্রে সামান্য ভাল হয়েছিল। কিন্তু ফুসফুসে জল জমতে শুরু করে। কিন্তু ১৫ তারিখ সকালে লড়াই শেষ করেন মইদুল ইসলাম মিদ্যা।প্রথম দিন থেকে তদারকিতে ছিল।  রক্ত পরীক্ষা করে জানতে পারি, সোডিয়াম নেমে গিয়েছে, পটাশিয়াম বেড়ে গিয়েছিল”। 

মইদুলের  মৃ্ত্যুর খবর পেয়ে DYFI নেতা কলতন দাশগুপ্ত বলেন, “জালিয়ান ওয়ালাবাগের মতো ঘটনা। চাকরি চাইতে গিয়ে কলকাতার রাস্তায় খুন হতে হয়েছে প্রশাসনের হাতে”

মইদুলের মৃত্যুর পরেই কার্যত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাম নেতা কর্মীরা।পুলিশের এই হিংসাত্মক আক্রমণের বিরুদ্ধে এবং DYFI যুবনেতা মইদুলের খুনি ‘পুলিশদের’ গ্ৰেপ্তারের দাবিতে ‘আজ আমরা বামপন্থী’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে খড়গপুরের তালবাগিচায় ও মালঞ্চায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলের পর মালঞ্চা রোডে ‘আমরা বামপন্থীর পক্ষ থেকে পথ অবরোধ করা হয়’। পথ অবরোধে উপস্থিত ছিলেন কমরেড অনিল দাস।

মইদুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে চন্দননগরের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বর্তমানে তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবির জানান, ‘যেকোন মৃত্যু দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক’। এটা হওয়া কখনোই বাঞ্ছনীয় নয়। তবে যেকোন আন্দোলন সীমারেখা মেনে করা উচিৎ’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *